জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

(দ্বাদশ শ্রেণি)

(HSC Biology 2nd Paper )


what image shows

মানবদেহের বিভিন্ন অংশে নানা ধরনের কাজ ও সংশ্লিষ্ট জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহ ঘটে। দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকলাপের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে রক্ত সংবহনতন্ত্র। এতে করে অঙ্গসমূহের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদানের আদানপ্রদান সম্পন্ন। দেহে এরূপ সংবহনের ফলে সকল জীবিত কোষ প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান, অক্সিজেন, হরমোন, খনিজ লবণ, পানি, ভিটামিন ইত্যাদি পেয়ে থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ দেহমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহে তা প্রেরণ করতে পারে। মূলত রক্ত, রক্তবাহিকা, হৃদপিণ্ড নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গড়ে উঠে। অর্থাৎ রক্ত সংবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতায় যে তন্ত্র গড়ে উঠে তাই হলো রক্ত সংবহনতন্ত্র। আগের শ্রেণিতে আপনারা রক্ত ও সংবহন সম্পর্কে যতটুকু পড়েছেন তারই ধারাবাহিকতায় এ ইউনিটে রক্ত ও সংবহন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এ ইউনিটের পাঠসমূহ
পাঠ ৪.১: রক্ত কণিকা ও লসিকা
পাঠ ৪.২: রক্ত জমাট বাঁধা


পাঠ ৪.৩: ব্যবহারিক
৩.১ রক্ত কণিকাসমূহের স্থায়ী স্লাইড পর্যবেক্ষণ

পাঠ ৪.৪: হৃদপিন্ডের গঠন

পাঠ ৪.৫: হার্টবিট, বিভিন্ন দশা ও এর নিয়ন্ত্রণে SA নোড, AV নোড এবং পারকিনজি আঁশের ভূমিকা

পাঠ ৪.৬: রক্তচাপ ও ব্যারোরিসিপ্টর এবং আয়তন রিসিপ্টরের ভূমিকা


পাঠ ৪.৭: মানবদেহের রক্তসংবহন তন্ত্র
৭.১ সিস্টেমিক সংবহন
৭.২ পালমোনারি


পাঠ ৪.৮: হৃদরোগের বিভিন্ন অবস্থায় করণীয়
৮.১ বুকের ব্যাথা
৮.২ হার্ট এটাক
৮.৩ হার্ট


পাঠ ৪.৯:হৃদরোগের চিকিৎসার ধারণা
৯.১ পেস মেকার কার্যক্রম
৯.২ ওপেন হার্ট সার্জারি
৯.৩ করোনারি বাইপাস
৯.৪ এনজিওপ্লাস্টি

পাঠ-৪.১ রক্ত কণিকা ও লসিকা


শিখনফল-
♦ রক্ত সম্পর্কে বলতে পারবেন।
♦ রক্তের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করতে পারবেন।
♦ লসিকা, লসিকাতন্ত্র ও লসিকাগ্রন্থি ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
♦ লসিকার কাজ উল্লেখ করতে পারবেন।

♣ প্রধান শব্দ লসিকা, লিম্ফোসাইট

রক্ত: রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬০-৩৮০ সেলসিয়াস। অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান
মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

লসিকাতন্ত্র
মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা (Tissue) রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” (Lymph vessels) বলে। অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত তন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে।

লসিকা:
এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

লসিকা নালি (Lymph vessels):
লসিকা জালিকা থেকে কতকগুলো নালি একত্রে মিলিত হয়ে লসিকা নালি গঠিত। লসিকা নালি দু’ধরনের। যথা- (১) অন্তর্মুখী লসিকা নালি ও (২) বহির্মুখী লসিকা নালি।
অন্তর্মুখী লসিকা নালি: যে নালি লসিকাকে লসিকা গ্রন্থির দিকে বহন করে তাকে অন্তর্মুখী লসিকা নালি বলে।
বহির্মুখী লসিকা নালি: যে নালি লসিকা গ্রন্থি হতে লসিকা বহন করে, তাকে বহির্মুখী লসিকানালি বলে। সাধারনত পেশি সঞ্চালন, শ্বাস কাজ ও ধমনির কাঁপনে দেহে লসিকা প্রবাহিত হয়। অন্ত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লসিকাকে ল্যাকটিয়াল বলে।

লসিকা গ্রন্থি (Lymph Gland): লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলোকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে। যান্ত্রিক ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে এগুলো দেহকে রক্ষা করে। ঘাড়ে, বগলে ও কুঁচকিতে লসিকা গ্রন্থি থাকে।

লসিকার কাজ
♦ প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে।
♦ স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
♦ পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
♦ শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়।
♦ প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে।
♦ প্রতিরোধ: ই-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
♦ দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীর কাজ রক্তের উপাদানের শ্রেণিবিভাগ একটি ছকের মাধ্যমে সহপাঠীদের সামনে উপস্থাপন করুন।

সারসংক্ষেপ
রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। মানবদেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বা (Blood corpuscles) বলে। এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলা রস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। লসিকা জালিকা থেকে কতকগুলো নালি একত্রে মিলিত হয়ে লসিকা নালি গঠিত। লসিকা নালি দু’ধরনের। যথা- (১) অন্তর্মুখী লসিকা নালি ও (২) বহির্মুখী লসিকা নালি। লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলোকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে।

পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.১
বহু নির্বাচনি প্রশ্ন
১. রক্তের PH হলো-
ক. ৭.১-৭.৪
খ. ৭.২-৭.৪
গ. ৭.৩-৭.৪
ঘ. ৭.৪-৪.৫

২. রক্তে প্রোটিন জাতীয় পদার্থগুলো হলো-
i. সিয়াম এলবুমিন
ii. প্রোথ্রোম্বিন
iii. ফাইব্রিনোজেন
নিচের কোনটি সত্য?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৩. নিচের কোনটি শ্বেত রক্তকনিকার অংশ নয়?
ক. মনোসাইট
খ. বেসোফিল
গ. ক্রিয়েটিনিন
ঘ. নিউট্রোফিল



পাঠ-৪.২ রক্ত জমাট বাঁধা



পাঠ-৪.৩ ব্যবহারিক


পাঠ-৪.৩.১ রক্ত কণিকাসমূহের স্থায়ী স্লাইড পর্যবেক্ষণ



পাঠ-৪.৪ হৃদপিন্ডের গঠন


পাঠ-৪.৫ হার্টবিট, বিভিন্ন দশা ও এর নিয়ন্ত্রণে SA নোড, AV নোড এবং পারকিনজি আঁশের ভূমিকা


পাঠ-৪.৬ রক্তচাপ ও ব্যারোরিসিপ্টর এবং আয়তন রিসিপ্টরের ভূমিকা



পাঠ-৪.৭ মানবদেহের রক্তসংবহন তন্ত্র


পাঠ-৪.৭.১ সিস্টেমিক সংবহন


পাঠ-৪.৭.২ পালমোনারি সংবহন



পাঠ-৪.৮ হৃদরোগের বিভিন্ন অবস্থায় করণীয়


পাঠ-৪.৮.১ বুকের ব্যাথা


পাঠ-৪.৮.২ হার্ট এটাক


পাঠ-৪.৮.৩ হার্ট ফেইলিউর



পাঠ-৪.৯ হৃদরোগের চিকিৎসার ধারণা


পাঠ-৪.৯.১ পেস মেকার কার্যক্রম


পাঠ-৪.৯.২ ওপেন হার্ট সার্জারি


পাঠ-৪.৯.৩ করোনারি বাইপাস


পাঠ-৪.৯.৪ এনজিওপ্লাস্টি


what image shows

জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান

গাজী সালাহউদ্দিন সিদ্দিকী